সর্বশেষঃ

এখন রোজা রাখি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি : তানজিন তিশা

শোবিজের ​মানুষদের প্রতি ভক্তদের কৌতুহলের শেষ নেই। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, ধর্মীয় আচরণ কেমন তাও জানতে চান অনেকে। তাদের জন্য এই রমজানে আমাদের আয়োজন তারকাদের রোজা রাখা, রোজার স্মৃতি ও নানা বিষয়াদি৷

রোজা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি ইবাদাত৷ রমজান মাসজুড়ে চলে এ ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা৷ এর যেমন আছে ধর্মীর গুরুত্ব তেমনি এদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও মহিমান্বিত করেছে রমজান৷

আমরা অনেকেই শৈশবের রোজা পালন নিয়ে নস্টালজিয়ায় ভুগে থাকি৷ অনেকে রোজা এলে নানা রকম উপলব্ধিও করি। তারকারাও তার ব্যতিক্রম নন৷ চলতি প্রজন্মের অভিনেত্রী তানজিন তিশা জানালেন তার রোজা পালন, রোজা নিয়ে শৈশবের স্মৃতি ও উপলব্ধির কথা-

প্রথম কবে রোজা রাখা হয়?
তিশা : মনে আছে ক্লাশ ওয়ানে প্রথম রোজা রাখি৷ তখন বুঝতাম যে রোজা রাখা হচ্ছে না ঠিকমতো৷ তবুও রাখতাম। শৈশবের একটা উত্তেজনা, ইমোশন কাজ করতো। বাট আমি পুরোপুরি রোজা রাখতে পেরেছি ক্লাশ ফাইভ থেকে৷

শৈশবের রোজা নিয়ে, ইফতার ও সেহরী নিয়ে অনেকেই নস্টালজিয়ায় ভুগেন৷ আপনার কি মজার কোনো স্মৃতি আছে?
তিশা : শৈশবের রোজা নিয়ে মজার একটা স্মৃতি খুব মনে পড়ে৷ চিপস খেয়ে রোজা রাখতাম তখন৷ বাবা-মা বলতেন যে হালকা স্ন্যাকস খেয়েও রোজা রাখা যায়৷ তুমিও হালকা কিছু খেতে পারো৷ আসলে তখন অনেক ছোট৷ রোজা ফরজ হয়নি৷ উলটো রোজা রাখলে দুর্বল হয়ে পড়বো ভেবে বাবা-মা কৌশলে খাওয়াতে৷ তো তাদের কথা শুনে চিপস খেতাম৷ সবকিছু থেকে লোভ সামলাতে পারলেও চিপস থেকে পারতাম না৷ তাই চিপস খেয়ে খেয়ে রোজা রাখতাম।

আর ছোটবেলায় সেহরীতে দেখা যেত যে উঠতে পারতাম না৷ তাই না খেয়েই রোজা রেখেছি অনেক৷ তাছাড়া সেই সময়টাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেহরী ও ইফতার করার মজাটাও খুব মনে পড়ে৷ মিস করি সেসব দিন৷ আমি এখনো কাজ না থাকলে বাসায় সবার সঙ্গে ইফতার করি। আনন্দ পাই৷

সেহরী ও ইফতারে আপনার কেমন খাবার পছন্দ?
তিশা : ইফতার মানেই আমার কাছে দেশে সাধারণত যেসব খাবার এ সময়টাতে খাওয়া হয় তার সবই খাওয়া। অনেক সময় ভাবি যে ভাজাপোড়া খাবো না। কিন্তু ভাজাপোড়া ছাড়া ইফতার মনে হয় না। তাই খাই৷ বিশেষ করে জিলাপি না থাকলে মনে হয় যে ইফতার কমপ্লিট হয়নি৷

আর সেহরীতে একটু হেলদি ফুড খাওয়ার চেষ্টা করি৷ কারণ সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয়৷ আর মা সবসময় জোর করে সেহরীতে আমাকে এক গ্লাস দুধ খাওয়াবেনই৷

শৈশব ও বড়বেলার রোজার মধ্যে কি পার্থক্য পান?
তিশা : শৈশব ও বড়বেলার রোজা রাখার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো আগে চিপস খেয়ে রোজা রাখতাম৷ কারণ তখন সেটা ছিলো আনন্দের ব্যাপার৷ আর এখন সেটা ফরজ, দায়িত্ব৷ রোজা রাখি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি।
রোজায় উপলব্ধি কি?
তিশা : রোজা প্রতিবছর আসে৷ অনেক কিছুই উপলব্ধি হয়৷ সংযম, ধৈর্য্য, না খেয়ে থাকা মানুষের কষ্ট অনুধাবণ করা৷ তবে এবারের রোজার উপলব্ধিটা অন্যরকম। করোনাকালের এবারের রোজার মাসটাকে আমি হয়তো আজীবন মিস করবো৷ এবার পুরো রোজায় বাসায় থেকেছি৷ পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কেটেছে৷ একসাথে সবাই ইফতার ও সেহরী করেছি৷

সেইসঙ্গে পুরো রোজার মাসটাই কেটেছে দারুণভাবে সব নিয়ম মেনে৷ অন্যান্যবার দেখা যায় কাজের চাপে নামাজ ঠিকমতো পড়া হয় না৷ এবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েছি৷ নিজের মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন দেখেছি৷ তাই মনে হয় যে এবারের রোজাটাকে মিস করবো আমি।

রোজা, করোনা, সামনে ঈদ; দর্শকের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?
তিশা : আসুন সবাই চেষ্টা করি বাসায় থাকতে। কষ্ট হলেও কিছুদিন একটু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি৷ কারণ এখন সময়টাই এমন যে আপনি আমি নিরাপদ থাকলে আমাদের পরিবার, সমাজ ও দেশ ভালো থাকবে৷